ফুলিপর্ব - ১
শম্পা সাহা
-ফুলি,ওই হতচ্ছাড়ি!এখনো তোমার বাসন কটা মাজা হলো না?রাজরানী!ও কটা বাসন মাজতে গতর এলিয়ে গেল যেন!
-যাই জেঠি।এই তো!
হাঁপাতে হাঁপাতে রাস্তার ধারের মিউনিসিপ্যালিটির কলপাড় থেকে হাতা,ডেকচি, চা ছাকনি,মগ,ডিম সেদ্ধের গামলা এনে বারান্দায় রাখতে গিয়ে ঠং আওয়াজ করে কেটলিটা পড়লো নিচে।
সবে সুপুরি মশলা পুরতে যাবে মুখে,এই আওয়াজে বিরক্ত হয়ে বাসন্তী দিল পিঠের ওপর বসিয়ে।যন্ত্রণায় একবার উঃ করে উঠেই মাথা নিচু করে ফুলি চলে গেল ঘরের এঁটো জায়গা মুছতে।তারপর আবার দোকানে যেতে হবে।উনুন নিকিয়ে ঘর দোড় মুছে রাখতে হবে।চারটে বাজতেই তো আবার জেঠি দোকান খুলতে যাবে!
ফুলি ঘাড় গোঁজ করে এঁটো জায়গা মুছে ,ঘরদোর যতটা সম্ভব ঠিকঠাক করে।তারপর চলে যায় দোকানে।দোকানের সামনে একটা ঘেয়ো নেড়ী রোজ শুয়ে থাকে।হয়তো উনুনের পাড়ে শুলে ওর ঘায়ের জ্বালা কমে!তাই সকাল বিকাল দোকান খুলতে গেলেই ফুলির চোখে পড়ে কুকুরটাকে।মারতে গিয়েও ফুলির হাত ওঠে না।
ওর আর কুকুরটার তো কোনো পার্থক্য নেই!ওই ঘেয়ো কুকুরটার ও কেউ নেই,ফুলির ও না!ও যেমন লোকের লাথিঝাঁটা খেয়ে বেঁচে কুকুরটাও তাই।হাতে কিছুটা জল নিয়ে ছিটায় কুকুরটার গায়ে।আর ওটাও আড়মোড়া ভেঙে দুলকি চালে হাঁটা দেয়।
এখন যেন জেনেই গেছে ফুলি এলে ওকে ওর নরম গরম ছাইয়ের বিছানা ছাড়তে হবে!তাই ফুলির গন্ধ শুঁকেই কিনা জেগে যায়।কিন্তু গায়ে জল দেওয়াটা।সিগন্যাল।ওটা না দিলে কুকুরটা উঠেও ওঠে না।
ওর একটা নাম ও দিয়েছে ফুলি,ভুলি।কুকুরটা মাদী।তাই মনে মনে নিজের নামের সঙ্গে নাম মিলিয়ে ভুলি।ভোলা তো ছেলেদের নাম!তাই ভুলি!
ভুলি ফুলিকে দেখে চোখ পিটপিট করে।ফুলি জল ছিটোতে ভুলি আড়মোড়া ভাঙে,সামনের দুপা আর পেছনের দুপা টানটান করে শরীরের জড়তা কাটিয়ে ফুলিকে দেখে কবার উঁ উঁ করে।ফুলি আবার জল ছিটায়
-যাঃ ভুলি যাঃ।

0 Comments